Home 20 আন্তর্জাতিক 20 বিজয় উদযাপনে মসুলে পদার্পণ ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর

বিজয় উদযাপনে মসুলে পদার্পণ ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর

মসুলে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে ইরাকি সেনার বিজয়ে তাদের অভিনন্দন জানাতে প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি সেখানে গিয়ে পৌঁছেছেন।
ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মসুলকে ‘মুক্ত’ ঘোষণা করে বাহিনীর বিজয় সূচিত করতেই তিনি সেখানে গেছেন।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিমান হামলার সাহায্য নিয়ে ইরাকি সেনা গত বছরের ১৭ অক্টোবর থেকেই মসুলের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার জন্য লড়াই চালাচ্ছিল।
২০১৪র জুন মাসে ইসলামিক স্টেটের জঙ্গীরা ওই শহরটি দখল করে নেয় এবং ইরাক ও সিরিয়া জুড়ে এক ‘খিলাফত’ স্থাপনের ঘোষণা দেয়।
কুর্দি পেশমেরগা, সুন্নি আরব উপজাতীয় যোদ্ধা ও শিয়া মিলিশিয়ারাও এই মসুল পুনদর্খলের লড়াইতে যুক্ত ছিল।
রবিবার মসুলে ইসলামিক স্টেটের চূড়ান্ত পরাজয়ের পরই সেনাবাহিনী ও ইরাকি জনতাকে অভিনন্দন জানাতে প্রধানমন্ত্রী সেখানে এসে পৌঁছেছেন বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
মসুলের ওল্ড সিটি -র কাছে একটি ছোট্ট এলাকায় ইসলামিক স্টেটের জিহাদিরা মাটি আঁকড়ে পড়ে ছিল – সেই ক্ষুদ্র পকেটগুলো দখল করতেই ইরাকি সেনারা গত কয়েকদিন ধরে লড়াই চালাচ্ছিল।এদিন রবিবারেও গোলাগুলির বিক্ষিপ্ত আওয়াজ শোনা গেছে মসুলের নানা প্রান্তে, ধোঁয়ার কুন্ডলী আকাশে পাকিয়ে উঠেছে।
সরকারি মিডিয়া জানাচ্ছে, ইরাকি সেনার অভিযানের মুখে তিরিশজন ইসলামিক স্টেট জঙ্গী টাইগ্রিস নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালাতে গিয়ে মারা পড়েছে।
ইরাক সরকার গত জানুয়ারিতেই ঘোষণা করেছিল মসুলের পূর্বপ্রান্ত পুরোপুরি মুক্ত হয়ে গেছে – কিন্তু শহরের পশ্চিমাঞ্চল, যেখানে সরু ও আঁকাবাঁকা বহু রাস্তা আছে, সেটাই সেনাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছিল।
ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে ২০১৪ সাল থেকে এযাবত মসুল থেকে প্রায় নয় লক্ষ মানুষ পালিয়েছেন। যুদ্ধের আগে শহরটির যে জনসংখ্যা ছিল, এটি তার প্রায় অর্ধেক।
তবে মসুলের পতন মানেই ইরাকে ইসলামিক স্টেট শেষ হয়ে গেল তা নয়। কারণ এখনও দেশের অনেক এলাকা তাদের কব্জায় আছে, সরকার-নিয়ন্ত্রিত এলাকাতেও তারা বোমা হামলা চালানোর ক্ষমতা রাখে।
মসুলে ইরাকি সেনার বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ। আন্তর্জাতিক জোটের যে সেনারা মসুল বিজয়ে সাহায্য করেছে, তার মধ্যে ফরাসি সেনারাও ছিল।বিশ্লেষণ : বিজয় এসেছে চড়া মূল্যের বিনিময়ে
বিবিসির আরব বিষয়ক সম্পাদক সেবাস্টিয়ান আশার বলছেন, তিন বছর আগে জঙ্গীদের হাতে তাদের যে শোচনীয় পরাজয় হয়েছিল – ইরাকি সেনা অবশেষে তার বদলা নিতে পারলেও এর জন্য তাদের বিরাট দাম দিতে হয়েছে।
হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন। মসুল শহরের বেশিটাই ধ্বংস হয়ে গেছে।
আর সবচয়ে বড় কথা, ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর দিক থেকে হামলা চালানোর আশঙ্কাও রয়ে গিয়েছে পুরো মাত্রায়।
ধারণা করা হচ্ছে, জঙ্গীরা এখন আত্মগোপন করবে এবং গেরিলা কায়দায় মসুল এবং ইরাকের অন্যান্য জায়গায় হিট-অ্যান্ড-রান ধাঁচে হামলা চালাবে।

About Dhakar News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দুদক মহাপরিচালক মফিজুর রহমান প্রয়াত

ঢাকার নিউজ ডেস্কঃ দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন শাখার মহাপরিচালক মফিজুর রহমান মারা গিয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ ...

কলকাতায় ভয়াবহ আগুন, ৪ ফায়ার সার্ভিস কর্মী সহ নিহত ৭

সোমবার বিকেলে কলকাতার স্ট্যান্ড রোডে পূর্ব রেলের দপ্তরে আগুন লাগে। সেই আগুনে এখন পর্যন্ত এএসআই-সহ ...

বিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদন শুরু এপ্রিলে

ঢাকার নিউজ ডেস্কঃএপ্রিল মাসের ১ তারিখ থেকে গুচ্ছভুক্ত ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে বিশটি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও ...

বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে বাস থেকে ছুড়ে ফেলল হেলপার

ঢাকার নিউজ ডেস্কঃ ফের ভয়াবহ মানবিক বিকৃতির উদাহরণ দেখল বাংলাদেশ। নারী দিবসের কয়েকঘন্টা আগেই রাজধানীর ...

বিদেশ যেতে পারবেন না খালেদা জিয়া

ঢাকার নিউজ ডেস্কঃবিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা আরও ছয়মাসের জন্য স্থগিত করার সুপারিশ করেছে আইন ...